• সত্যি কথা বলতে, কেবল নোবেল পাওয়াটাই কি বাকি ছিল তাঁর?

    হকিংকে নোবেল পুরস্কার দিতে না পারার একটা কারণ হলো বাস্তবে একটা ব্ল্যাকহোল থেকে হকিং বিকিরণ বের হয়ে আসছে কি না, সেটা মাপার মতো কারিগরি দক্ষতা এখনো মানুষের আয়ত্ত হয়নি।
  • তাহলে বাকি থাকে ল্যাবরেটরিতে একটা ব্ল্যাকহোল বানানো! সেটার একটা সম্ভাবনা ছিল ইউরোপের সার্নে অবস্থিত লার্জ হেড্রন কলাইডারে।
  • সেখানে কণাদের মারামারি-ধাক্কাধাক্কিতে খুবই ছোট ব্ল্যাকহোল সৃষ্টি হতেও পারে। যদিও এখনো তার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
  • একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল কিছুদিন আগে। ১৯৮০ সালে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী বিল আনরু হকিং বিকিরণ পরীক্ষা করার একটি ভিন্ন পদ্ধতি প্রস্তাব করেন।
  • তিনি এমন একটি মাধ্যমের কথা ভাবলেন, যা কিনা ত্বরিত গতিতে চলমান। জলপ্রপাতের বেলায় এটি দেখা যায়। জলপ্রপাতের একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে কোনো সাঁতারুই এমন গতিতে সাঁতার কাটতে পারে না, যা জলপ্রপাতের আকর্ষণকে নাকচ করতে পারে।
  • ফলে সে যেমন সাঁতারু হোক না কেন, তাকে জলপ্রপাতে আত্মসমর্পণ করতেই হয়। আনরুর বক্তব্য ছিল, এটিই একটি ঘটনা দিগন্ত।
  • কাজেই শব্দের জন্য যদি কোনো ‘ব্ল্যাকহোল’ বানানো যায়, তাহলেই হকিং বিকিরণ সেখানেও দেখা যাবে।২০১৬ সালে বিজ্ঞানী স্টেইনহওয়ার ঠিক এই কাজটা করেন। তিনি রুবিডিয়াম পরমাণুর একটি মেঘমালার তাপমাত্রাকে নিয়ে গেলেন পরম শূন্যের (-২৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) সামান্য ওপরে।
  • ফলে রুবিডিয়াম পরমাণুর মেঘমালাটি চলে যাচ্ছে বোস-আইনস্টাইন ঘনায়ন (BEC-Bose-Einstein Condensate) নামের এক কোয়ান্টাম স্তরে।
  • সেগুলোকে দিয়ে বানানো হলো সিগারের মতো লম্বা একটি আকৃতি, যা কিনা মাত্র কয়েক মিলিমিটার লম্বা।
  • এতে শব্দের গতিবেগ দাঁড়াল সেকেন্ডে আধা মিলিমিটারের মতো। তারপর তিনি ওই পরমাণুগুলোকে ত্বরণ দিয়ে এমন অবস্থায় আনলেন, যার ফলে কোনো কোনো কণার গতিবেগ হয়ে গেল সেকেন্ডে এক মিলিমিটারের বেশি। ফলে তৈরি হয়ে গেল শব্দের জন্য একটি ঘটনা দিগন্ত! আর ওই স্বল্প তাপমাত্রায় বিইসি খুবই দুর্বল কোয়ান্টাম চাঞ্চল্যের ভেতর দিয়ে যায়।
  • এর ফলে সেখানে তৈরি হয় শব্দের জোড়া কণা, ফোনোন। ব্ল্যাকহোলে যেমনটি হয় ফোটন কণা। আর এই ফোনোন কণার একটা হারিয়ে যাচ্ছে বিইসির এক পাশে, আর অন্য পাশে আবির্ভূত হচ্ছে অপরটি।
  • স্টেইনহওয়ারের মতে এর একটাই অর্থ, বিইসি থেকে বের হয়ে আসছে হকিং বিকিরণ! বিজ্ঞানীরা স্টেইনহওয়ারের এই ব্যাপারটিতে নিশ্চিত হতে পারেননি।
  • তবে, সবাই এটি মেনেছেন যে স্টেইনহওয়ারের পরীক্ষা সফল হওয়ার মানেই হচ্ছে হকিং বিকিরণ প্রমাণিত হওয়া।
  • আর তাই অনেকেই এই পরীক্ষণটি নিজেরা করবেন বলে ঠিক করেছেন, অনেকেই শুরুও করেছেন। কিন্তু গত দেড় বছরে আর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
  • তিনি জন্মেছিলেন গ্যালিলিওর মৃত্যুবার্ষিকীতে। আর মৃত্যুবরণ করেছিলেন আইনস্টাইনের জন্মবার্ষিকীতে।
  • ২০১৮ সালের ১৪ই মার্চ, স্টিভেন হকিং ইংল্যান্ডের কেম্ব্রিজে মৃত্যুবরণ করেন। এত প্রতিভাবান ব্যক্তি গেহেরিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেও তার মেধা, মনন, দৃষ্টিকে কেড়ে নিতে পারেনি। তাই তিনি স্বপ্ন দেখার ডাক দিয়ে যান।

লেখকঃ রিমল চাকমা, শিক্ষার্থী

ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়