ছবিঃ রাঙ্গামাটি জেলা শহরের এক টুকরো মনোরম দৃশ্য

আমরা বর্তমান তরুণ সমাজ, এইটাই আমাদের সময় কিছু করার। মনে আছে, ছোটবেলায় পরীক্ষায় আমরা আমাদের জীবনের লক্ষ্য নিয়ে রচনা লিখতাম,তাতে কেউবা সত্যিকারের ইচ্ছে আবার কেউ কিছু ঠিকমতো বুঝতে না পারার আগে মুখস্ত লিখে ফেলতাম- আমি ডাক্তার হতে চাই বা আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। এখনো আমাদের মধ্যেই যদি একবার চোখ বুলিয়ে নিলে চোখে পরে আমরা তরুণরা একেকজন একেক জায়গায় নিজেদের লক্ষ্য পূরণে ।যে কয়েকটা পেশার মধ্যে ছিল আমাদের মুখস্ত জ্ঞান তার মধ্যে থেকে বের হয়ে এসেছি আমরা। ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি সমাজ পরিবর্তন করার লক্ষ্যে। আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন তরুণ সমাজ।সুষ্ঠূ সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখি আমরা। তবে একটা কথা আমার মনে হয় প্রায় সবার মধ্যেই উঁকি দেয়- বাস্তবতা এবং স্বপ্ন দেখার ভীড়ে ,নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে আমরা সবশেষে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছি তো?

হ্যাঁ, এটা অবশ্যই ঠিক বড় হতে হতে আমাদের ছোটকালের সেইসব সোনালি দিনের সাথে স্বপ্ন ও বদলে যাচ্ছে, সাথে সময়ের সাথে বদলাচ্ছে আমাদের একেকজনের মতবাদ। যুক্ত হচ্ছি বিভিন্ন কাজে, পরিচিত হচ্ছি বিভিন্ন চিন্তা-ধারার সাথে সাথে। এই সবকিছুর মধ্যে তাও একটা ব্যাপার থেকেই যায়, সমাজের মাঝে আমরা একজন সচেতন এবং ভালো মানুষ হয়ে বেঁচে আছি কিনা ব্যাক্তিগত স্বার্থের উপরে।একদিনে হয়তবা সমাজ আমাদের দ্বারা গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিবর্তন হচ্ছেনা কিন্তু আজ থেকে ১০বছর হোক বা ৫০বছর হোক ওই সমাজে যা কিছু ঘটবে তাতে আমাদের ও কিছুটা অন্তত অবদান থাকবে বৈকি! সেটা ভালো কোনো পরিবর্তন যেন হয় সেদিকে এই মুহূর্ত থেকে খেয়াল রাখার দায়িত্বটা আমাদের।

যেহেতু আমরাই বর্তমানের পরিবর্তন তাই ভালো কিছু হওয়ার কথা তুললেই আপনাআপনি কিন্তু আমাদের জন্মভূমির কথা চলে আসে। জন্মভূমির সাথে সবার আগে চলে আসে প্রকৃতির কথা। আমার মতে, একজন ভালো মানুষ হতে গেলে আগে ভালবাসার সহজাত একটা প্রবৃত্তি থাকতে হবে প্রকৃতির উপর।

ছবিঃ এক কৃষকের কৃষিকাজ  ( সংগৃহীত)

বর্তমানের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একবার ঢুঁ মারলেই বুঝতে পারি প্রকৃতির আক্রোশের কাছে মানুষ ঠিক কতটা অসহায়।তাই, আমাদের জন্য সারা বিশ্বের জীব বৈচিত্রের কল্যাণ এর জন্য আমাদের প্রকৃতির যত্ন নেওয়াটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। পাহাড়ে বাস করা আদিবাসী অঞ্চলে পুরো দেশের বেশিরভাগ বনভূমি। এ ক্ষেত্রে নিজ নিজ উদ্যোগে পাহাড়ের তরুণ সমাজের এগিয়ে আসতে হবে।সমতলের সচেতন তরুণ দের আগাতে হবে সমতলের প্রকৃতি দেখভাল করার লক্ষ্যে। গাছ লাগাতে হবে বেশি, পরিবেশ টাকে নিরাপদ রাখতে হবে আমাদেরই স্বার্থে । পাহাড়ি ঝর্ণার ঝিরি ঝিরি কোমল পানির বিশুদ্ধটা যেন আমরা নষ্ট হতে না দিই কোনোমতে। এ জন্য সচেতন করতে হবে মানুষদের এবং যারা প্রকৃতি ধ্বংস করে নিজের স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে প্রশাসন যেন থাকে সক্রিয় যদিও দুঃখজনকভাবে এদিক দিয়ে বর্তমান অবস্থা সারাদেশেই দুর্বিষহ। তবুও প্রকৃতি যেন হেরে না যায় অর্থলিপ্সু অমানুষদের কাছে সে চেষ্টা আমাদেরই করা দরকার।এবং এটাও ভালো বিষয় বিশ্বের মানুষ এখন এসব নিয়ে সচেতন হচ্ছে। পুরোপুরি বদল করতে না পারি, আমরা নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করতে থাকলে এক সময় ঠিকই সফল হবো সকল অশুভর বিরুদ্ধে।

ছবিঃ পানি দূষণে ভেসে ওঠা মৃত মাছ ( সংগৃহীত)

এই পরিস্থিতির মধ্যে চাইলে মানুষ ভালো শিক্ষা ও নিতে পারছে আবার চাইলেই আয়ত্ত করে নিচ্ছে খারাপ শিক্ষা। আমরা খবরে হালকা  চোখ রাখলেও দেখতে পাচ্ছি মানুষে মানুষে কেমন তফাত! ত্রানের চাল চুরি করা থেকে শুরু করে চারদিকে যেন অমানুষের ছড়াছড়ি, বন্ধ হচ্ছেনা এখনো মেয়েদের উপর ধর্ষণ, একজনের অসচেতনতায় হাজার মানুষের জীবনের উপর বড় বড় হুমকি চোখে পরছে এই সময়ে যেখানে ভালো ব্যবস্থার অভাব যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কেউ, পাহাড়ে এই সুযোগে পুড়ছে বন। তারপর ও আমাদের মতো তরুণরাই পারবে এই ভেঙ্গে যাওয়া সমাজে সুদিন নিয়ে আসতে। আমি আশা রাখি মনের মধ্যে সামনের ২০ বছর পর পিছনে তাকালে আমি কি দেখবো না যে আমার সমাজের মানুষ, আমার দেশের মানুষ,সারা বিশ্বের মানুষ ভালো আছে? যেখানে সমতলে ১০ বছরের একটা ছোট বাচ্চা মেয়ে ঘরে ভাত না থাকার অভিমানে আত্নহত্যা করবেনা, পাহাড়ের মানুষদের বুনো আলু সিদ্ধ খেয়ে দিন পার করতে হবেনা!

ছবি : একদিন বাচ্চারা গান কি গাইবেনা সমস্বরে “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি” বা “আমা দেজচান হিরে মানিক গাঙ্গে সরায় ভরা” সুর তুলে? ( সংগৃহীত )

অবশ্যই ভালো দিনের দেখা পাবে মানুষ আর তার জন্য বদল আনবে তরুণরা । ভালো কিছুর অনুপ্রেরণা নিয়ে যেতে হবে সামনে। সাহায্যপ্রার্থীদের কাছে নিজের জিবনকে হুমকিতে রেখে যারা কাজ করে যাচ্ছে, রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষুদার্ত এক কুকুরের ও যে যত্ন নিচ্ছে , সমাজের ব্যঙ্গ মন্তব্য উপেক্ষা করে যে মেয়ে লড়ে যাচ্ছে এখনো- ঠিক তাদের মতো তরুণ রা আনবে বদল। তরুণরা শক্তি হয়ে উঠুক সারা পৃথিবীর।

ছোটকালের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা ডাক্তারি পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখছে আজ, তারাই তো প্রকৃত তরুণ। বয়স এর বাধা পেরিয়ে তারুণ্য হয়ে উঠুক সমাজের চালিকাশক্তি। মানুষ বেঁচে থাকুক সচেতন নাগরিক হিসেবে, সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব তুলে নিক নিজের কাঁধে। সফলতার পিছনে ছুটতে গিয়ে আমরা যেন অমানুষ না হয়ে যাই।মানুষের দরকারে মানুষ যেন হয়ে যায় ভরসা করার মতো একটা কাঁধ । তারুণ্য হয়ে উঠুক এমন কাঁধ যাতে ভর দিয়ে উঠে যাবে  ভবিষ্যৎ ছেলেমেয়েদের প্রজন্ম এক পচনশীল  সমাজের এই বিশৃঙ্খল থেকে আলোর পথে। আর তা যদি নাহয় তাহলে করোনা ভাইরাস এর মতো আরো খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়তো আমাদের হতে হবে কারণ প্রকৃতি জানে কিভাবে নিজেকে সুস্থ করে তুলতে হবে যা এই মুহূর্তে আমাদের অভিজ্ঞতায় যুক্ত হচ্ছে।

ছবিঃ মানুষ বেঁচে থাকুক মানুষ হিসেবে। ( সংগৃহীত )

যে শিক্ষা প্রকৃতি আমাদের দিতে চাইছে সেই শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনে পথ পাড়ি দিতে হবে। নিজের জন্য আমরা যেন প্রকৃতির ক্ষতি না করে ফেলি। তরুণ রা এগিয়ে যাক দৃঢ়পদে। সচেতন আমরা নিজ নিজ দায়িত্বে মনোযোগ দিই যেন এরকম চরম বিপদ আর না দেখতে হয়। পৃথিবীতে ভালবাসার জন্ম হোক প্রতিদিন, মানুষ মানুষকে আরো বেশি ভালবাসুক, মানুষ মানুষের হাত ধরুক আরো শক্তভাবে, পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই বেঁচে থাকার যুদ্ধ করার বদলে বাচ্চারা আবার খিলখিল করে হেসে উঠুক। সুস্থ হয়ে উঠুক প্রকৃতি, সুন্দর হয়ে উঠুক প্রিয় পৃথিবী এবং তারুণ্যের সাথে মানুষ বেঁচে থাকুক আর একটু বেশি কারণ তরুণ আমরাই তো “চঞ্চল”, “অদ্ভুত”।


Writer :

Priase Chakma, University of Dhaka

Student, Department of Law